ইট ভেঙে পড়াশোনা, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বিসিএস ক্যাডার আমিনুল
ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
ডেস্ক রিপোর্ট :
Publish : 02:11 AM, 10 October 2026.
Digital Solutions Ltd

ইট ভেঙে পড়াশোনা, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বিসিএস ক্যাডার আমিনুল

Publish : 02:11 AM, 10 October 2026.
ইট ভেঙে পড়াশোনা, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বিসিএস ক্যাডার আমিনুল

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট :

বন্ধুরা যখন মাঠে খেলত, তখন আমিনুল হককে করতে হতো ইট ভাঙার কাজ। কখনো কৃষিকাজ, কখনো টিউশনি করে জোগাড় করেছেন পড়াশোনার খরচ। মাত্র সাত মাস বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারানো শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। সেই সংগ্রাম পেরিয়ে এবার বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন ময়মনসিংহের এই তরুণ।

আমিনুল হকের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামে। তিনি কৃষক ওয়াজউদ্দিন মিয়ার ছেলে। ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসেও একই ক্যাডারে সুপারিশ পান তিনি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর তাঁর যোগদানের কথা রয়েছে।

আমিনুলের বেড়ে ওঠা চাচা আবদুল খালেক ও চাচি মিনারা খাতুনের স্নেহে। নিজেদের সন্তানের মতো তাঁকে লালন-পালন করেছেন তাঁরা। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় ইট ভাঙা ও কৃষিকাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাতেন আমিনুল। নবম শ্রেণি থেকে শুরু করেন টিউশনি।

২০১৫ সালে কান্দানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে আছিম শাহাবুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে ভর্তি হন। ২০২১ সালের মার্চে শুরু করেন বিসিএসের প্রস্তুতি। কোনো কোচিংয়ের ওপর নির্ভর না করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় প্রস্তুতি নিয়ে পাঁচটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

আমিনুলের চাচা আবদুল খালেক বলেন, সাত মাস বয়সে মাকে হারানোর পর অনেক কষ্টে তাঁকে বড় করেছেন। কখনো ভাতিজা হিসেবে নয়, নিজের সন্তানের মতোই দেখেছেন তাঁকে।

চাচি মিনারা খাতুনও স্মৃতিচারণ করে বলেন, নিজের বুকের দুধ খাইয়ে আমিনুলকে বড় করেছেন। তাঁর বাবা নিজের তিন ছেলের পাশাপাশি আমিনুলকেও সন্তানের মতো দেখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই দায়িত্ব তিনি সব সময় মমতা দিয়ে পালন করেছেন।

নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে আমিনুল বলেন, বন্ধুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন তাঁকে কাজ করতে হতো। কষ্ট হলেও মনে মনে ঠিক করেছিলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবেন। তাই যত বাধাই আসুক, পড়াশোনা ছাড়েননি।

সাফল্যের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে প্রয়াত বাবা ও দাদির কথা। ২০২১ সালে মারা যান তাঁর দাদি মোছা. ওমর জান। নাতি একদিন বড় কর্মকর্তা হবে এমন স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু ক্যাডার হওয়ার খবরটি তাঁদের জানাতে পারেননি আমিনুল। নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর বাবা ও দাদির কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।

আমিনুলের ভাষ্য, তাঁরা বেঁচে থাকলে এই সাফল্যে অনেক খুশি হতেন। তাঁদের নিজের মুখে সুখবরটি জানাতে না পারার আক্ষেপ সারা জীবন থেকে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাবিকুন্নাহার সিনথিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় আমিনুলের। পরে ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জীবনের কঠিন সময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে মানসিক সমর্থন পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অভাবের কারণে একসময় যাঁকে পড়াশোনার খরচ জোগাতে ইট ভাঙতে হয়েছে, সেই আমিনুলের আজকের অর্জন দীর্ঘ অধ্যবসায়, পরিবারের ত্যাগ ও দৃঢ় মনোবলের উদাহরণ। তাঁর সংগ্রামের গল্প প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন ধরে রাখা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর

Search bd News

পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।

সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর

পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত

নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]

বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]

©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শিরোনাম রাজাপুরে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার শিরোনাম বাবুগঞ্জে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক শিরোনাম কেরালায় গাড়ি চাপায় তিন শিক্ষার্থীকে হত্যা করে যুবক বলেন, ‘বাবা সামলে নেবে’ শিরোনাম গাজীপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পর, ৯৯৯-এ ফোন করেন স্বামী শিরোনাম রাজাপুরে শিক্ষার্থীদের কোরআন সবক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত