ছবি সংগৃহীত
চার দশকের বিচ্ছেদ, বুকভরা হাহাকার আর আপনজনদের ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। পাকিস্তানে অবস্থানরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হালিমার পরিবারের সন্ধান মিলেছে বাংলাদেশের রংপুরে। পাঞ্জাব সেফ সিটিজ অথরিটির ‘মেরা পেয়ারা’ টিমের নিরলস প্রচেষ্টা এবং মানবিক উদ্যোগে সম্ভব হয়েছে এই অসাধারণ সাফল্য।
প্রায় ৪০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান হালিমা। পরবর্তী সময়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। ২০১৩ সালে ইসলামাবাদ থেকে অসহায় ও অভিভাবকহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ সময়। এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন তাঁর স্বামী ও একমাত্র ছেলে। আপনজনদের হারানোর বেদনা বুকে নিয়েই পরিবারের সন্ধানে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
হালিমার দেওয়া গ্রামের নাম ‘লৌথপুর’সহ সামান্য কিছু তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় স্বজনদের খোঁজ। কিন্তু ভাষাগত জটিলতা ও তথ্যের সীমাবদ্ধতায় অনুসন্ধান ছিল বেশ কঠিন।
গত ২৬ অক্টোবর সমাজকর্মী ও সাংবাদিক মাসুদ মাহাতাব হালিমার পরিবারের সন্ধান চেয়ে সংবাদ প্রচার করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরে স্বজনদের খুঁজে পেতে সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ প্রচার ও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় পাঞ্জাব সেফ সিটিজ অথরিটির ‘মেরা পেয়ারা’ টিমের প্রচেষ্টায় অবশেষে বাংলাদেশের রংপুরে সন্ধান মেলে হালিমার পরিবারের।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর পরিবারের সন্ধান পাওয়া হালিমার জীবনে যেন নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। যদিও হারিয়ে যাওয়া স্বামী ও সন্তানকে আর ফিরে পাবেন না তিনি, তবুও নিজের শিকড় ও রক্তের সম্পর্কের সন্ধান তাঁর জীবনে এনে দিয়েছে এক অন্যরকম আবেগের মুহূর্ত।
একজন মানুষের স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি যে কখনো শেষ হয় না, হালিমার গল্প তারই এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ। এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল, মানবিকতার কোনো সীমানা নেই; আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে চার দশকের দূরত্বও একদিন ঘুচে যেতে পারে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News