ছবি সংগ্রহীত
কোলেস্টেরল, যা শরীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্বিজাতীয় পদার্থ, তা যদি বৃদ্ধি পায় তবে এটি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলেস্টেরলের সঠিক পরিমাণ এবং নিয়ন্ত্রণ হৃদরোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এটি অনেক সময় কোন লক্ষণ ছাড়াই বৃদ্ধি পায়, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
কোলেস্টেরল দুটি প্রধান ধরনের হয়:
এলডিএল (লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন), যা "খারাপ" কোলেস্টেরল নামে পরিচিত এবং ধমনীর মধ্যে জমে গিয়ে ব্লক তৈরি করতে পারে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, এইচডিএল (হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) বা "ভাল" কোলেস্টেরল শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
কোলেস্টেরল পরীক্ষা: বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, ৪০ বছর বয়সের পর প্রতি পাঁচ বছর অন্তর কোলেস্টেরলের পরীক্ষা করা উচিত। তবে, যদি আপনার পরিবারের কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বা আপনি বুকে ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন, তবে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
কোলেস্টেরলের মাত্রা: সুস্থ কোলেস্টেরলের জন্য, এইচডিএল ১ মিমোল/লি বা তার বেশি এবং এলডিএল ৩ মিমোল/লি বা তার কম হওয়া উচিত। মোট কোলেস্টেরলের অনুপাত ৬ এর নিচে থাকা ভালো।
জিনগত প্রভাব: কিছু মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যায় ভোগেন, বিশেষ করে যারা ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া নামক জিনগত অবস্থার শিকার। এমন অবস্থায় শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এ জন্য ওষুধের প্রয়োজন হয়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রা পরিবর্তন: স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত ওজন কমানো কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফাইবারযুক্ত খাবার (যেমন ওটস, শাকসবজি, ডাল) এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন জলপাই তেল, বাদাম, মাছ) কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, স্যাচুরেটেড ফ্যাট (যেমন বাটার, প্রক্রিয়াজাত মাংস) কম খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।
স্ট্যাটিন ও অন্যান্য ওষুধ: যারা উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছেন, তাদের জন্য চিকিৎসকরা স্ট্যাটিন নামে ওষুধ প্রস্তাব করেন, যা এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তবে, যারা অত্যন্ত উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য নতুন ধরনের পিসিএসকে৯ ইনহিবিটারস ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে।
কোলেস্টেরল সম্পর্কে সঠিক সচেতনতা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারি। জীবনের গতি পাল্টে সুস্থ জীবনযাপন করার মাধ্যমে, উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা আমাদের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য রক্ষা করবে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News