ছবি: সংগৃহীত
লক্ষাধিক মানুষের বসবাস পিরোজপুর পৌরসভায়। শহরের বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর লক্ষ্যে সিটিইআইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ডাম্পিং স্টেশন। নির্মাণের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পুরোপুরি স্থাপন না হওয়ায় স্টেশনটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।
ফলে আগের মতোই খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন পৌরবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শহরের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদন করা। এতে পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি সার বিক্রি করে পৌরসভার রাজস্ব বাড়ার কথা ছিল। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় উৎপাদিত সার বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে প্রকল্পটির সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের কার্যক্রম।
এদিকে ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ছাঁকনি, সংগ্রহ ও ল্যান্ডফিলের ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এখনো পুরোপুরি স্থাপন করা হয়নি। ফলে পৌর এলাকার বর্জ্য অপসারণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি।
স্টেশনের শ্রমিকদেরও রয়েছে নানা অভিযোগ। বর্জ্য শোধনাগারের শ্রমিক মমতাজ বেগম বলেন, পাঁচ বছর ধরে তিনি সেখানে কাজ করছেন। শুরুর দিকে গ্লাভস, বুট, মাস্ক ও ওষুধ দেওয়া হলেও পরে এসব সরবরাহ করা হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই পায়ে সুঁই ঢুকে যায় এবং বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায় ভুগতে হয় বলে জানান তিনি।
আরেক শ্রমিক ফিরোজা বলেন, ছয় বছর ধরে কাজ করলেও তাদের বেতন বাড়েনি। বর্তমানে মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতন পান বলে জানান তিনি।
পৌরবাসীর অভিযোগ, শহরের অনেক ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে সেখানে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে রাখা ডাস্টবিনের বর্জ্যও সময়মতো অপসারণ করা হয় না।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাইনুল হোসেন বলেন, ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। অন্যদিকে বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, রাতে বর্জ্য অপসারণের পরিবর্তে দিনের বেলায় শহরে ময়লার গাড়ি প্রবেশ করায় দুর্গন্ধের কারণে চলাচলে সমস্যা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনের কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। তার দাবি, সঠিকভাবে সার উৎপাদন ও বাজারজাত করা গেলে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে, অন্যদিকে পৌরসভার আয়ও বাড়বে।
পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক বলেন, পৌর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। ডাম্পিং স্টেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন করে তা বিক্রির মাধ্যমে পৌরসভার রাজস্ব বাড়ানো। সার উৎপাদন হলেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় তা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, সার বিক্রির অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সার বিক্রির মাধ্যমে পৌরসভার রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News