ছবি সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সদ্য কার্পেটিং করা সড়কে হাত বা পা দিয়ে চাপ দিলেই উঠে আসছে পিচের আস্তরণ। কাজ শেষ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই এমন পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে। ধলা খানবাড়ি তিন রাস্তার মোড় থেকে নির্মাণাধীন সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৩৯৮ মিটার। এর মধ্যে সম্প্রতি প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিং শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চালানো হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের বেড প্রস্তুত, ইটখোয়া, বালু ও পাথরের স্তর এবং বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মান যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে কার্পেটিং সড়কের সঙ্গে ঠিকমতো সংযুক্ত হয়নি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আতাহারুল ইসলাম বলেন, পা দিয়ে চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। নতুন সড়কে এমন হওয়ার কথা নয়। নির্মাণকাজের সময় তারা প্রতিবাদ করলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা মো. এখলাস আলী বলেন, প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা না হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এখনই যদি কার্পেটিং উঠে যায়, তাহলে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
সড়কের কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সড়কের প্রতিটি ধাপে নির্মাণসামগ্রীর মান, বেডের প্রস্তুতি, স্তরের পুরুত্ব, উপকরণের অনুপাত এবং কার্পেটিংয়ের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই কাজ করা হয়েছে। কার্পেটিং উঠে গেলে তার কী করার আছে—এমন মন্তব্য করে এ বিষয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. যুবায়েত হোসেন বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সড়কের কার্পেটিং যদি কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই উঠে যায়, তাহলে নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News