ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখনো কার্যকর হয়নি সেই রায়। আপিল নিষ্পত্তি করে দ্রুত রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আবরারের পরিবার।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ভোরে হলের সিঁড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টন ও বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া তাঁর একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উঠে আসে।
ঘটনার পর আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ২৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন।
মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। পরে ৩ মে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আসামিপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
এখন মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে সাধারণত মামলাগুলো তারিখের ক্রমানুসারে শুনানি হয়। তবে প্রধান বিচারপতি চাইলে কোনো মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির বিষয়টি প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনার কথা বলা হয়েছে। তাঁর মতে, রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে এমন বার্তা যাওয়া প্রয়োজন, যাতে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ভিন্নমতের মানুষের ওপর এ ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ না পায়।
হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তিনি ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে যেন এমন পরিণতির শিকার হতে না হয়, সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে র্যাগিংমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সাত বছর পর আবরার হত্যা মামলার বিচার এখন চূড়ান্ত ধাপের অপেক্ষায়। আপিল বিভাগে শুনানি ও নিষ্পত্তির পরই নির্ধারিত হবে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পরবর্তী প্রক্রিয়া।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News