ছবি: সংগৃহীত
বাবার হাত ধরে যে বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছিল শৈশবের প্রথম পাঠ, সময়ের পরিক্রমায় সেই বিদ্যালয়েই ফিরেছেন ছেলে। তবে এবার আর শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বাবার সহকর্মী হয়ে। শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে এমন বিরল অভিজ্ঞতা পেয়েছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার তোয়াসিন আহমেদ। তাঁর বাবা জাকির হোসেন ওই বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষক।
সম্প্রতি ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাবা-ছেলের এই আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। তাঁদের একসঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা সদরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নোয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ছেলে তোয়াসিন আহমেদ ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নবনিযুক্ত তোয়াসিনকে পাঁচ দিনের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে তাঁর বাবার কর্মস্থলে।
গত রোববার থেকে একই বিদ্যালয়ে সহকর্মী হিসেবে পাঠদান শুরু করেছেন বাবা ও ছেলে। পাঁচ দিনের এই সংযুক্তি শেষে তোয়াসিন যোগ দেবেন ঘিরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সময়টা অল্প হলেও বাবা-ছেলের কাছে এটি হয়ে উঠেছে জীবনের বিশেষ এক স্মৃতি।
তোয়াসিন আহমেদ ২০২৪ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। কর্মজীবনের শুরুতেই শৈশবের বিদ্যালয়ে বাবার সঙ্গে সহকর্মী হওয়ার সুযোগ তাঁর আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তোয়াসিন বলেন, বাবার হাত ধরে একসময় এই বিদ্যালয়ে পড়তে আসতেন তিনি। এখন শিক্ষক হিসেবে সেই বিদ্যালয়েই বাবার সঙ্গে এসেছেন। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষকতা জীবনের শুরু বাবার সঙ্গে হওয়ায় তিনি দারুণ আনন্দিত।
বাবা জাকির হোসেন বলেন, ছেলে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখত। তার স্নাতক শেষ হওয়ার পরপরই নিয়োগ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। ছেলের এমন অর্জনে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। ভবিষ্যতে তোয়াসিন তার কর্মস্থলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা তাঁর।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুসনে আরা জানান, তোয়াসিন এই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। যে প্রতিষ্ঠানে একসময় শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠ নিয়েছেন, এখন সেখানেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন তিনি। বিষয়টি তাঁদের সবার জন্য গর্বের।
প্রধান শিক্ষক সুফিয়া খাতুনের মতে, শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়ে বাবার সহকর্মী হয়ে থাকা তোয়াসিনের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনও বাবা-ছেলের একই কর্মস্থলে কাজ করার ঘটনাকে বিরল ও আনন্দের বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারের আনন্দের গল্প নয়; বরং স্মৃতি, ভালোবাসা, গর্ব এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য মুহূর্ত।
যে বিদ্যালয়ের আঙিনায় একদিন ছাত্র হিসেবে শৈশব কেটেছে, সেখানেই আজ বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করছেন তোয়াসিন। বাবা-ছেলের এই পাঁচ দিনের সহকর্মীজীবন তাই কেবল কর্মস্থল ভাগাভাগি নয়, বরং একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে গড়ে ওঠা দুই প্রজন্মের এক আবেগঘন গল্প।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News