শিশুশ্রম: সংকটে শৈশব, আইন সংস্কারের প্রয়োজনঃ ছবি সংগ্রহীত
বাংলাদেশে শিশুশ্রমের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এই শিশুরা তাদের শৈশব হারিয়ে কঠিন বাস্তবতায় জীবনযাপন করছে, যেখানে তাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৩৫ লাখের বেশি কর্মজীবী শিশু রয়েছে, যার মধ্যে ১১ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। এই সমস্যার সমাধানে সরকারের আগের পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়, এবং শ্রম সংস্কার কমিশন নতুন আইনি সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশে শিশুশ্রমের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। শিশুশ্রমের শিকার অনেক শিশু তাদের জীবনের সেরা সময়, অর্থাৎ শৈশব, হারিয়ে ফেলছে। যেমন ১৬ বছরের সবুজ, যে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করে ঢালাই কারখানায়, যেখানে তীব্র গরম ও রাসায়নিক গন্ধের মধ্যে কাজ করেই জীবন ধারণ করতে হয়। সে জানায়, “কষ্ট হয়, কিন্তু কিছু করার নেই। সংসারের খরচের জন্য কাজ করতে হয়। পাশাপাশি ছোট ভাইকে পড়াশোনা করানোর জন্যও অর্থ জোগাড় করতে হয়।”
এমনই আরেকটি গল্প শোনা গেছে ১৩ বছরের সাগরের, যে লেগুনা চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করে। তার শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে, সে তার পরিবারের খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে কাজ করছে। সাগর যেমন জানায়, “আমার ছোট কাঁধে সংসারের ভার এসেছে। আমাকে কাজ করতে হয়।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১১ লাখের বেশি। তাদের মাসিক আয় মাত্র আড়াই হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা। অথচ এই শ্রমের মাধ্যমে তাদের শৈশব ও ভবিষ্যত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
বিগত সরকার শিশুশ্রম রোধে নানা উদ্যোগ নিলেও, বাস্তবায়ন ছিল অনুপযুক্ত এবং প্রকল্পগুলো কার্যকর হয়নি। শ্রম সংস্কার কমিশনও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশনের সদস্য আফজাল কবির খান বলেন, “বাংলাদেশের সমাজ শিশুশ্রমকে গ্রহণ করে, ফলে শিশুরা শারীরিক এবং মানসিকভাবে চাপে রয়েছে, আর অনেকেই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।”
শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতার জানান, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, শিশুশ্রম বন্ধ করা। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা তৈরি করে, সেই কাজে শিশুদের অংশগ্রহণ যাচাই করতে হবে।”
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, এই শিশুশ্রমের ফলে শিশুদের স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের শৈশব সংকটে পরিণত হচ্ছে। তারা বলছে, শুধুমাত্র প্রকল্প দিয়ে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, বরং শ্রম আইনের সংস্কার করা জরুরি।
এবার শুধু প্রকল্প নয়, প্রয়োজন শ্রম আইনের সংস্কার। আর এর মাধ্যমে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে তবেই শিশুদের শৈশব ফিরে পাওয়া সম্ভব, এবং ভবিষ্যতে তাদের উন্নতির পথ উন্মুক্ত হবে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News