ছবি সংগ্রহীত
বরগুনার পোটকাখালী এলাকার জেলে মো. ফোরকান ও তার পরিবারের জন্য ঈদ যেন এক দুঃস্বপ্ন। তার স্ত্রী চম্পা বেগমের কথায় ফুটে উঠছে, ‘‘ঘরে চাউল নাই, গুরাগারা কান্দে ভাতের জন্য, অফিসাররা আয় কিস্তি নেতে কিন্তু দিতে পারি না। গরিবের কি ঈদ থাকে?’’ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে, জলদস্যুদের আতঙ্ক এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞায় মাছ শিকার বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ফোরকানের মতে, ‘‘অন্যের মতো ঈদের আনন্দ কেমন তা তো জানি না, আল্লাহ যদি ঈদ করায়, তাইলে করমু, নাইলে না।’’
ফোরকান বলেন, গত এক মাসে জলদস্যুদের হামলার আতঙ্কে মাছ ধরতে সাগরে যেতে পারেননি। পত্রিকার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সাগরে মাছ কম পাওয়া এবং ডাকাতের আক্রমণের কারণে পরিবারের জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার মেয়ে ফারজানা জানায়, ‘‘আমার বাবা মাছ ধরতে গিয়ে এবার তেমন মাছ পায়নি। এখন ঈদও হবে না।’’
বরগুনার পোটকাখালী এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি পরিবার এমন কষ্টের মধ্যে বসবাস করছে। তারা তাদের সন্তানদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছে না। এখানে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে মৎস্য বিভাগ কিছু সহায়তা দেয়, তবে তা খুবই অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, সাগরে বেড়েছে জলদস্যুদের হামলা। কিছুদিন আগে বরগুনার এক জেলে কালাম হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় তারা ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না। তাদের দাবি, সরকার চালের পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহায়তা দিলে তাদের অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
বরগুনার মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন জানিয়েছেন, ‘‘ঈদ উপলক্ষ্যে জেলেদের সাহায্য করার মতো কোনো সুযোগ নেই। তবে জাটকা ধরা বন্ধ রাখতে ২৬ হাজার ৪৮৯ জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।’’
এ পরিস্থিতিতে, বরগুনার এই জেলেরা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, এবং তাদের জন্য ঈদ অনেকটাই এক নিষ্প্রাণ অপেক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News