ছবি: সংগৃহীত
সুগন্ধা নদীর পাড়ে সারি সারি নৌকা বাঁধা। নৌকায় তোলা জালও প্রস্তুত। ইলিশ ধরার মৌসুম শেষের দিকে। কিন্তু নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। দিনভর নদীতে ঘুরে যে পরিমাণ মাছ মিলছে, তাতে নৌকার জ্বালানি, জালের খরচ ও সংসারের ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁদের।
এর মধ্যে মাথার ওপর ঋণের বোঝা। নিয়মিত দিতে হচ্ছে এনজিওর কিস্তি। নৌকা ও জাল কেনা কিংবা মেরামতের জন্য মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকাও শোধ করতে হবে। সামনে আবার শুরু হবে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে ইলিশের মৌসুম এবার ঝালকাঠির জেলেদের জন্য স্বস্তির বদলে নিয়ে এসেছে দুশ্চিন্তা।
শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে সুগন্ধা নদীর পাড়ের পোনাবালিয়া ও দেউরি গ্রামে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একই অভিযোগ নলছিটির মাটিভাঙ্গা এলাকার জেলেদেরও। তারাও বলছেন নদীতে জাল ফেললেও আগের মতো ইলিশ মিলছে না।
সদর উপজেলার দেউরি গ্রামের জেলে নুরু মিয়ার বয়স ৬৫ বছর। জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন তিনি। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশের ঝাঁক পাওয়া যায়, কোথায় জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি এসব তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতাও যেন কাজে আসছে না।
নুরু মিয়ার মতোই নদীতে মাছ ধরে সংসার চালান আকাববর মৃধা। ছেলে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরেন তিনি। ইলিশের মৌসুম শুরুর আগে নৌকা ও জাল কেনা এবং মেরামতের জন্য ঋণ করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে আয় করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন। এরপর যা থাকবে, তা দিয়ে চলবে সংসার। কিন্তু মৌসুম শেষের দিকে চলে এলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় সেই হিসাব এখন মিলছে না।
কাঠালিয়া-বেতাগী সীমান্তসংলগ্ন এলাকার জেলে আখের আলী বলেন, তাঁদের এলাকায় ইলিশের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকায় জেলেরা সারা বছর এই সময়টির অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু এবার সেখানেও মাছ কম। একদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তি, অন্যদিকে মহাজনের দাদনের টাকা। মাছ কম পাওয়ায় এসব টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেটিই এখন তাঁর বড় চিন্তা।
প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে জাল ফেলেন কয়েক'শ জেলে। এই কয়েক মাসের আয় দিয়েই পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, নৌকা ও জালের খরচসহ বছরের নানা ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেন তাঁরা।
তবে চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
জেলেদের এই অভিযোগের সঙ্গে মৎস্য বিভাগের হিসাবেও কিছুটা মিল পাওয়া যাচ্ছে। ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাসে জেলায় যে পরিমাণ ইলিশ আহরিত হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, অন্যান্য জেলার নদীতে এবছর ঝাকে ঝাকে ইলিশ ধরা পরেছে। কিন্তু সেই তুলনায় সুগন্ধা ও বিষখালীতে মিলছেনা ইলিশ। নদীর পানি দুষন ও পলি সংক্রান্ত কারনে এমনটা হতে পারে বলেো ধানরা কররছেন এই কর্মকর্তা।
এ অঞ্চলের জেলেদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়লে ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে। তখন একদিকে মাছ ধরার সুযোগ থাকবে না, অন্যদিকে নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকবে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News