ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের আটটি নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদীভাঙন চলছে। এতে মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, কারখানা ও জয়ন্ত নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার বসতঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলার নদ-নদীগুলোর প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে ৬০ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা। গত পাঁচ দিনে উপজেলার চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নে অন্তত ৪১টি বসতঘর এবং ঢোলের হাটের প্রায় ৩০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেঘনায় বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও নদীর তীব্র স্রোতে সেগুলোও টিকছে না। চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল বারী জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এলাকায় প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। কিন্তু ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বসতবাড়ি ও স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়েছে।
এদিকে বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে, কোথাও ঝুঁকিতে রয়েছে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, মসজিদ-মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
উজিরপুরের শিকারপুরসহ কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা এলাকায় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। মুলাদীর শফিপুর, নাজিরপুর, জালালপুর ও সেলিমপুর এলাকাতেও ভাঙন বেড়েছে।
গত বুধবার মেহেন্দিগঞ্জের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মূল্যবান সম্পদ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, বর্ষাকালে জেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন তীব্র। জরুরি ভিত্তিতে জিও ডাম্পিং করা হলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সব এলাকায় পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, সন্ধ্যা-সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে উজিরপুর ও বাবুগঞ্জকে রক্ষায় ৯৩৮ কোটি টাকার ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসন প্রকল্প প্রি-একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। একনেকের অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, জরুরি জিও ব্যাগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসন ব্যবস্থা না হলে প্রতিবছরই নদীগর্ভে বিলীন হবে নতুন নতুন জনপদ।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News