ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ ২৪টি অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান এ নোটিশ জারি করেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৫৩(২) বিধির আওতায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগ।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব মেলাতে না পারার অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি পিবিজিএসআই স্কিমের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এতে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম বঞ্চিত হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উৎসে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করে গত আড়াই বছরে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে ক্যাশ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করে লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, টাকার বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বরের বাইরে ছাত্রী ভর্তি, উপবৃত্তির অর্থ শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ না করা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ের বেঞ্চ ও টেবিল মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় এক হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য, সভাপতির অনুমোদন ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বন্ধ রাখার অভিযোগও রয়েছে।
নোটিশে এসব অভিযোগকে অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে। একই সঙ্গে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ জানাতে বলা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, তাও জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা, অর্থ আত্মসাৎ, সহকারী শিক্ষকদের হয়রানি এবং শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দেন।
এদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শনের পর এসব অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এসএম মজিবুর রহমানের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News