ছবি: সংগৃহীত
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে এরই মধ্যে তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে সুরেশ্বর মাছঘাট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণের নির্দেশে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণ ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের সময়ে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সুরেশ্বর এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু জিও ব্যাগ ফেলা নয়, নদীভাঙনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে টেকসই তীররক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সুরেশ্বর মাছঘাটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পদ্মার ভাঙন তাঁদের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। বারবার ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চললেও স্থানীয়দের মূল প্রত্যাশা, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের স্থায়ী সংস্কার এবং ভবিষ্যতে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News