ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর জমে থাকা পানি দেখে বোঝার উপায় থাকে না, সেটি রাস্তা নাকি ডোবা। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বলাকা ক্লাব এলাকার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল। সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের পাশাপাশি নেই পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বলাকা ক্লাব এলাকার রাস্তাটির এমন অবস্থা। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রাস্তা ভাঙাচোরা হওয়ার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নেই।
কলেজশিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, বৃষ্টি হলে বাড়ির সামনের সড়ক পানিতে ডুবে যায়। ভাঙা রাস্তার কারণে রিকশাও সহজে ঢুকতে চায় না। ফলে কলেজে যাতায়াতে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়া সড়কেরও একই অবস্থা। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও দেখা যাচ্ছে খোয়া। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি যাত্রীদেরও ঝাঁকুনি সহ্য করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাওন হোসেন বলেন, রিকশায় চলাচল করাই কষ্টকর। অসুস্থ রোগী বা বয়স্ক মানুষকে নিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক রিকশাচালক ওই এলাকায় যেতে চান না; গেলেও বেশি ভাড়া নেন।
রিকশাচালক ইব্রাহিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি ভাঙা। এই সড়কে রিকশা চালালে গাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রায়ই মেরামত করতে হয়।
একই ওয়ার্ডের স্টেডিয়ামের পেছনের কবি আহসান হাবীব সড়কের সমস্যাও প্রকট। সরু সড়কটিতে পাশাপাশি দুটি রিকশা চলাচল করাই কঠিন। নেই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে ভারী বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি এতটাই সরু যে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও সহজে ঢুকতে পারে না।
এই এলাকার বাসিন্দা শায়লা আফরোজ বলেন, গত বছর তাঁদের এলাকা পানিতে ডুবে গিয়েছিল। পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন নেই, পাশের খালটিও প্রায় মৃত। সম্প্রতি এলাকায় আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারেনি বলেও জানান তিনি।
এদিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াসিন খাল পুল থেকে বটতলা পর্যন্ত সড়কের পিচও উঠে গেছে। খোয়া বেরিয়ে আসায় সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আল ইমরান বলেন, এ সড়ক দিয়ে অনেক মানুষ ও শিক্ষার্থী চলাচল করেন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড নয়, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কেই কমবেশি একই চিত্র। কোথাও সড়ক ভাঙাচোরা, কোথাও আবার অপর্যাপ্ত ড্রেনেজের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামছে না। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব বলেন, পৌরসভার অনেক সড়কে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা এখনো বড় সমস্যা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো পিরোজপুর পৌরসভা ১৮৮৫ সালে ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হয়। ১৯৯০ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পায়। তবে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সড়ক, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে এসব সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্পের কথা জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মোট ১১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রকল্প পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৯ কোটি ৬৫ লাখ এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৬১ কোটি টাকা রয়েছে।
পৌরসভা জানিয়েছে, বর্তমানে পালপাড়া ও সিআইপিএ এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে বলাকা ক্লাব ও মণ্ডলপাড়া এলাকার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
পিরোজপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে ১১১ কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ভাঙা ও অকেজো সড়ক-ড্রেন সংস্কারের কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি পুরোনো সড়কগুলোর টেকসই সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজের মান ও নির্ধারিত সময়সীমা নিশ্চিত হলে দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগ কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News