ছবি: সংগৃহীত
কাগজে-কলমে যে রাস্তার দৈর্ঘ্য থাকার কথা ছিল ৯০০ মিটার, বাস্তবে তা করা হয়েছে মাত্র ৫০০ মিটার। শুধু দৈর্ঘ্যেই নয়, বড় ধরণের কারচুপি করা হয়েছে রাস্তার প্রস্থ বা চওড়াতেও। সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী রাস্তাটি ৯ ফুট চওড়া হওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে মাত্র ৭ ফুট প্রস্থ দিয়ে নামমাত্র ইটের সোলিং করে কাজ শেষ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের অধীনে ডামুড্যার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিলই বটতলার পার্শ্ববর্তী পূর্বতারা-শিমুলিয়া হয়ে তিন খাম্বা অভিমুখী সড়কটিতে এই অনিয়মের মহোৎসব চলেছে। স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে সাব-ঠিকাদার (উপ-ঠিকাদার) হিসেবে মাঠ পর্যায়ে এই কাজ বাস্তবায়ন করেছেন ডামুড্যা থানা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হান্নান মাদবর এবং রাজু পাইক।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে জানা যায়, এই সড়কটি ওই অঞ্চলের দুটি বিশাল গ্রামকে একত্রিত করেছে এবং এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক পরিবারের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটি টেকসইকরণের লক্ষ্যে সরকারি বড় বরাদ্দ এলেও কাজ শেষ হতে না হতেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাব-ঠিকাদার হান্নান মাদবর ও রাজু পাইক তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি নকশা ও বরাদ্দের তথ্য গোপন রেখে এই নয়ছয় করেছেন। তারা ৯০০ মিটারের কাজ ৫০০ মিটারে নামিয়ে এনে বাকি ৪০০ মিটারের বরাদ্দ পুরোটা আত্মসাৎ করেছেন। একই সাথে রাস্তার দুপাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও নিয়ম ভেঙে ৯ ফুটের রাস্তা ৭ ফুট করে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের এই ভয়াবহ অনিয়ম ও চুরির বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-র মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পিআইও অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মোঃ সবুজ ফোন রিসিভ করে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "যারা কাজ করছে আপনারা তাদের সাথে কথা বলতে পারেন, দেখেন তারা কি বক্তব্য দেয়।"
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কাজসংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে মাঠে বা যোগাযোগের মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই প্রকল্পের সঠিক প্রাক্কলন ও বরাদ্দের অফিশিয়াল তথ্য দেওয়ার কথা বলা হলেও, এখন পর্যন্ত তারা তথ্য না দিয়ে নানামুখী টালবাহানা ও লুকোচুরির আশ্রয় নিচ্ছে। সরকারি তদারকি কর্মকর্তা রেখে অভিযুক্ত সাব-ঠিকাদারদের ওপর দায় চাপানো এবং তথ্য গোপন করার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে স্থানীয়দের মনে পিআইও অফিসের সাথে ঠিকাদারের যোগসাজশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা উপ-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন প্রকাশ্য দুর্নীতি এবং প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নীরব ভূমিকা গ্রামীণ উন্নয়নকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই হরিলুটের সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্ত হান্নান মাদবর ও রাজু পাইকসহ সংশ্লিষ্ট অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জানিয়েছেন তো বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News