ইসলাম ও রাজনীতি: যোগ্য নেতৃত্বের অনিবার্য শর্তঃ ছবি সংগ্রহীত
রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, বরং জনগণের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম। ইসলামের দৃষ্টিতে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠন, যেখানে নৈতিকতা, সততা, দক্ষতা ও যোগ্য নেতৃত্ব থাকবে। তাই কেবল আলেম হলেই নেতৃত্বের জন্য যথেষ্ট নয়; বরং একজন নেতার কিছু বিশেষ গুণ থাকা অপরিহার্য।
সততা ও নৈতিকতা:
একজন নেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো তার সততা ও নৈতিকতা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা সবাই রাখাল এবং তোমাদের সবাই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করবে।’ (সহিহ বুখারি, ৮৯৩) যদি নেতা দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তবে পুরো সমাজই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। সুতরাং নেতৃত্বের জন্য সৎ ও আমানতদার হওয়া আবশ্যক।
আল্লাহভীতি ও ধর্মীয় অনুশাসন:
একজন মুসলিম নেতার মধ্যে আল্লাহভীতি থাকা অত্যন্ত জরুরি। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত: ৪৫) যে নেতা আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে, তিনিই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
দক্ষ সংগঠক ও প্রশাসক:
শুধু ধর্মীয় জ্ঞান থাকলেই চলবে না; নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক দক্ষতাও থাকতে হবে। হজরত ইউসুফ (আ.) বলেছিলেন, ‘আমাকে দেশের সম্পদের দায়িত্ব দিন, নিশ্চয়ই আমি বিশ্বস্ত ও দক্ষ।’ (সূরা ইউসুফ: ৫৫) আজকের বিশ্বে দক্ষ নেতৃত্ব গঠনের জন্য প্রশাসনিক ও কৌশলগত জ্ঞান অপরিহার্য।
পরিশ্রমী ও কর্মঠ হওয়া:
একজন অলস ব্যক্তি কখনো জাতিকে নেতৃত্ব দিতে পারে না। রাসুল (সা.) ছিলেন সবচেয়ে পরিশ্রমী ব্যক্তি, যার ফলস্বরূপ ইসলাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তাই নেতৃত্বের জন্য কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মত্যাগ অপরিহার্য।
বাস্তববাদী ও কৌশলী চিন্তাধারা:
রাজনীতিতে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান ও কৌশলেরও প্রয়োজন রয়েছে। নবী (সা.) মদিনায় হিজরত করে শুধু ইবাদতের উপর জোর দেননি, বরং মদিনার সংবিধান প্রণয়ন করে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নির্ধারণ করেছিলেন। আজকের যুগেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য কৌশলী ও বাস্তববাদী চিন্তাধারা জরুরি।
দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠা:
অনেক নেতা শুধুমাত্র নিজের দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন, যা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। ইসলামে একজন নেতা কেবল তার অনুসারীদের জন্য নন, বরং সমগ্র জাতির কল্যাণের জন্য দায়বদ্ধ।
আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ:
একজন রাজনীতিবিদের নিজে আলেম হওয়া জরুরি নয়, তবে তিনি অবশ্যই হক্কানী আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। রাসুল (সা.)-ও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাহাবাদের পরামর্শ নিতেন।
সুতরাং, কেবল বক্তৃতা ও আবেগ দিয়ে নয়, বরং ইলম, প্রজ্ঞা ও বাস্তবিক নেতৃত্বের গুণাবলির সমন্বয়ে একজন যোগ্য নেতা গঠিত হতে হবে। ইসলামের আলোকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানে ন্যায়বিচার, সততা, দক্ষতা ও কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের সমন্বয়।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: searchbdnews@gmail.com
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: ads@searchbdnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News