ছবি: সংগৃহীত
বরগুনায় রাতের আঁধারে একের পর এক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার চুরি হচ্ছে। চোরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি বাসাও। গত দুই মাসে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক বাড়ির মূল্যবান সার্ভিস তার চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। চুরি যাওয়া তারের পরিবর্তে নতুন তার কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক পরিবারকে দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার ক্রোক এলাকার বাসিন্দা বিধবা মোরশেদা বেগমের চায়ের দোকান ও বাসার প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের সার্ভিস তার গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে চুরি হয়। এরপর থেকে তার বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। অর্থাভাবে নতুন তার কিনতে না পারায় অন্ধকারে দিন কাটছে তাঁর। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক কেটলি চালাতে না পারায় কমেছে বেচাকেনাও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই মাসে শুধু ক্রোক এলাকাতেই অন্তত ৫০টি বাড়ির সার্ভিস তার চুরি হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর বর্জ্য শোধনাগারের সংযোগ তার এবং বিভিন্ন ল্যাম্পপোস্টের তারও চুরি হয়েছে।
হেউলিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা রফিক প্যাদা বলেন, লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে গভীর রাতে তার কেটে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। পরে তারের প্লাস্টিকের আবরণ ফেলে রেখে তামার অংশ নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় রাতেই কোথাও না কোথাও তার চুরির ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা মো. উজ্জ্বল জানান, কয়েকদিন আগে তাঁর বাসার সার্ভিস তারও চুরি হয়। পরে এলাকায় কয়েকজনকে তার কাটতে দেখে অন্ধকারে তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে নিজের কাটা তার উদ্ধার করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তিদের কাছে চাকু ছিল।
পৌরসভার পিটিআই সংলগ্ন এলাকায় বর্জ্য শোধনাগারের সব সংযোগ তার চুরি হয়েছে বলে জানান কর্মী সোবহান। এতে লাইটপোস্ট থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। রাতের গরমে কর্মীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বরগুনা সদর থানার ওসি আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, প্রায় ১০ দিন আগে তাঁর সরকারি বাসার সার্ভিস তারও চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে চুরির ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পাশাপাশি ভাঙারি দোকানগুলোতেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, সার্ভিস তার চুরির একটি চক্র সক্রিয় হওয়ার তথ্য পুলিশের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চক্রটির সব সদস্যকে গ্রেপ্তার করে চুরি বন্ধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News