ছবি: সংগৃহীত
জাপানের রাস্তায় বৃষ্টির মধ্যে স্বচ্ছ ছাতা হাতে হাঁটতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে। দেশটির দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত এই ছাতার নাম ‘ভিনাইল আমব্রেলা’। সম্প্রতি জাপানে রিশাদ হোসেন ও লিটন দাসের হাতে দেখা গেছে এমন স্বচ্ছ ছাতা। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাতাটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে অনেকের।
স্বচ্ছ এই ছাতাকে জাপানি ভাষায় বলা হয় ‘বিনীরু গাসা’। এর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। টোকিওর আসাকুসা এলাকার ঐতিহ্যবাহী ছাতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘হোয়াইট রোজ’ ১৭২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কাপড়ের ছাতার ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলে প্রতিষ্ঠানটির নবম প্রজন্মের মালিক মিৎসুও সুডো নতুন ধরনের ছাতা তৈরির চিন্তা করেন।
সে সময় মার্কিন সেনাদের মাধ্যমে জাপানে ভিনাইল টেবিলক্লথ আসে। মিৎসুও সুডো লক্ষ্য করেন, তৎকালীন কাপড়ের ছাতা ভিজে গেলে রং চটে যেত। এতে জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিমোনোও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত।
এই সমস্যা সমাধানে ছাতার ওপর ব্যবহারের জন্য ওয়াটারপ্রুফ ভিনাইল কভার তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। পরে ১৯৫৮ সালে ‘হোয়াইট রোজ’ বাজারে আনে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ প্লাস্টিকের তৈরি স্বচ্ছ ছাতা।
শুরুতে জাপানের ঐতিহ্যবাহী ছাতা বিক্রেতাদের কাছে নতুন এই ছাতা খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। তবে ১৯৬৪ সালের টোকিও অলিম্পিকের সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। জাপানে আসা এক মার্কিন ক্রেতা স্বচ্ছ ছাতাটির বিশেষত্ব দেখে আগ্রহী হন। বৃষ্টির মধ্যেও ছাতার ভেতর দিয়ে সামনে ও আশপাশের রাস্তা পরিষ্কার দেখা যায়—এ সুবিধাই তাঁকে আকৃষ্ট করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ছাতা রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৭০-এর দশকে জাপানের ফ্যাশন সচেতন তরুণদের মধ্যেও স্বচ্ছ ছাতা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। টোকিওর গিনজা ও হারাজুকুর মতো ফ্যাশনেবল এলাকায় বিভিন্ন দোকানে এটি বিক্রি শুরু হয়। ধীরে ধীরে ছাতাটি জাপানের শহুরে জীবনের পরিচিত অংশ হয়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কম খরচে এই ধরনের ছাতা ব্যাপক হারে উৎপাদন শুরু করে। ফলে এর দামও অনেক কমে যায়। জাপানের ‘কনবিনি’ বা ২৪ ঘণ্টার দোকানগুলোতে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ ইয়েনের মধ্যেই স্বচ্ছ ছাতা পাওয়া যেতে থাকে।
জাপানে নিয়মিত টাইফুন ও ঝড়ো বাতাসের কারণে ছাতাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি দাম কম হওয়ায় ছাতা নষ্ট হয়ে গেলেও নতুন একটি কিনে নেওয়া সহজ।
তাই শুধু বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা নয়, স্বচ্ছতা, ব্যবহারিক সুবিধা, সহজলভ্যতা ও দীর্ঘদিনের ইতিহাস—সব মিলিয়েই জাপানের ভিনাইল আমব্রেলা এখন দেশটির দৈনন্দিন সংস্কৃতির একটি পরিচিত প্রতীক।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News