ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি ছিল না এমন মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে গেলে ক্ষমতাসীনদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে।’ তাঁর বক্তব্য, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী হতে পারে না।
পোস্টে তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় বিএনপির অতীতের অনেক কর্মকাণ্ডের হিসাব তোলা হয়নি। তখন লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটানো। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি ফিরে আসে, তাহলে মানুষের রক্ত, আত্মত্যাগ ও স্বপ্নের মূল্য কোথায়—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল শুধু একজন শাসকের বিদায় নয়; বরং রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তন। সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধসহ বিভিন্ন সংস্কার ছিল সেই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিএনপির জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিরোধিতা করছেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি মানুষের উপকারে আসতে পারে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিমূলক না হলে, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না থাকলে এবং প্রশাসন দলীয় প্রভাবমুক্ত না হলে এসব উদ্যোগ দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব নয়।
সাধারণ মানুষের জীবিকা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মানুষের জীবনমান ও অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হলে নীরব থাকার নৈতিক ভিত্তি থাকে না। যে পরিবর্তনের জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে, তা দলীয় স্বার্থের কাছে বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।
পোস্টের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের কর্মকাণ্ডের যেমন জবাবদিহি প্রয়োজন, তেমনি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ডেরও হিসাব দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের আত্মত্যাগের মালিক নয়, রাষ্ট্রের মালিকও নয় রাষ্ট্রের মালিক জনগণ।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে গেলে জনগণ আবারও প্রশ্ন তুলবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News