ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ‘সাথী’ পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সংগঠনটির বিভিন্ন সময়ের তিনটি চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে পদবাণিজ্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈতিক পদস্খলন ও অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগের জবাব দিয়েছেন আম্মার। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনোটি প্রমাণ করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘তারা একাধিক অভিযোগ এনেছে, একটা প্রমাণ আনেনি। শুধু এলিগেশন।’
শিবিরের প্রকাশিত চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করা হয়। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের আরেকটি চিঠিতেও আগের অভিযোগগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে পদবাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আম্মার। তিনি দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি ওই কমিটি করে দিয়েছেন—এমন একটি ধারণা ছড়ানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন আম্মার। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থসংকটের কথা জানিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি কয়েকটি ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাব নিয়ে যান। পরে সেই প্রস্তাবকে চাঁদা চাওয়ার চিঠি হিসেবে প্রচার করা হয় বলে দাবি তাঁর।
নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আম্মার। তাঁর দাবি, ক্যাম্পাস জীবনে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি এমন আচরণ করেননি, যার অন্য কোনো অর্থ হতে পারে।
শিবিরের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রাকসু জিএস। তিনি বলেন, ডানপন্থী সংস্কৃতিচর্চার কারণে তাঁকে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। সংগঠনটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আম্মার আরও বলেন, তিনি যেসব কাজ করেননি, সেসবের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া হলে সেগুলোর প্রমাণ তিনি কীভাবে দেবেন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি শিবিরের কাছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘পদবাণিজ্যের’ একটি প্রমাণ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এ জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়ও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে রাবি শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেছেন, আম্মারকে ২০২৫ সালেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। শিবিরের প্রকাশিত চিঠিগুলোও সত্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার। বহিষ্কারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News