ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডসহ বিভিন্ন কাগজে হাতে লেখা বেশ কিছু চিঠি উদ্ধার হয়েছে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে। উদ্ধার হওয়া এসব লেখায় সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ, আক্ষেপ ও আত্মসম্মান রক্ষার নানা অনুভূতির কথা উঠে এসেছে।
চিঠিগুলোর লেখক হিসেবে মরিয়ম খাতুনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর এসব হাতে লেখা পাতা উদ্ধারের বিষয়টি সামনে আসে।
উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিতে সম্পর্কের টানাপোড়েনকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে লেখা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে।’ একই লেখায় আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে তিনি দেখতে পান, যাঁর ওপর তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তিনিই ছিলেন বিপক্ষ দলের সেনাপতি।
অন্য একটি পাতায় ভালোবাসা ও সম্পর্কের অধিকার নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা, ওই ব্যক্তি অন্য নারীর স্বামী হওয়ায় তাঁর ওপর আইনগত অধিকার ছিল স্ত্রীর। লেখাটিতে নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের।
আরেকটি লেখায় সম্পর্ককে একটি ‘গেমস’ বা খেলার সঙ্গে তুলনা করে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বন্ধুত্বের প্রস্তাবে সরল মনে রাজি হলেও পরে নিজেকেই সেই খেলায় ‘দাবার এক গুটি’ মনে হয়েছে।
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় রয়েছে ক্ষোভ ও ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা। সেখানে বিশ্বাস করার কারণে ঠকতে হয়েছে—এমন আক্ষেপের পাশাপাশি নিজের হাসিই একদিন অপর পক্ষের জন্য ধ্বংসের কারণ হবে বলে লেখা হয়েছে।
লাল কালিতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় আত্মসম্মানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শুধু মায়ায় পড়ে বারবার নত হলেও তাঁকে যতটা সহজ বা ‘সস্তা’ ভাবা হচ্ছে, তিনি ততটা নন।
চিঠিগুলোর সঙ্গে ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ লেখা একটি পাতাও পাওয়া গেছে। সেখানে ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসি, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার এবং আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া এসব হাতে লেখা পাতায় মূলত একটি সম্পর্ককে ঘিরে ভালোবাসা, অভিমান, বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও আত্মসম্মানের বিষয়গুলোই উঠে এসেছে। একই সঙ্গে একটি লেখায় ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে।
তবে চিঠিগুলোতে উল্লেখ করা অভিযোগ বা বক্তব্যের সত্যতা এবং এগুলোর প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News