ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচারকাজ কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। নিরাপত্তাশঙ্কার কথা উল্লেখ করে প্রসিকিউশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মামলার ১৫তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করার কথা রয়েছে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের। গত ৮ অক্টোবর তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনার পরিবর্তে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার কথা রয়েছে। জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ একটি আইনজীবী প্যানেল মামলা পরিচালনা করছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ৮ অক্টোবর তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যে তাঁর জবানবন্দি শেষ হয়। জবানবন্দিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত করা হতো। প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করতে মিথ্যা বা ভুল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ অভিযোগে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, আগের শুনানিতে জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কার কথা জানিয়ে আবেদন করেছিলেন। তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদন জানানো হলেও প্রসিকিউশন তাতে আপত্তি জানায়। কারণ, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে একই গাড়িতে থাকা অন্য বন্দি ও আসামিদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।
তামীমের ভাষ্য, এ পরিস্থিতিতে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি আদালতে হাজির করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়াউল আহসান বিচারক ও দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনতে পারবেন এবং নিজের বক্তব্যও তুলে ধরতে পারবেন।
প্রসিকিউটর করোনাকালে ভার্চ্যুয়ালি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার নজিরও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রচলিত আইন ও ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুসরণ করে কারাগার থেকেই বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, মদিনা মেডিকেল, ০৯ তালা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
হুমায়ুন কবির সাগর
পরিচালক
মাহবুব আলম সৈকত
নিউজ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
বিজ্ঞাপণ
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৭৫২১১১১৭
Email: [email protected]
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || Serach BD News